
মিরপুরে দুই ম্যাচ শেষে সমান অবস্থানে দুই দল
বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ এখন একদম সমতায় এসে দাঁড়িয়েছে। মিরপুর শের ই বাংলা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ শেষে দুই দলই একটি করে জয় পেয়েছে, ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচটাই হয়ে উঠেছে ভাগ্য নির্ধারণী লড়াই।
তিন ম্যাচের এই সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচেই ঠিক হবে শেষ পর্যন্ত ট্রফি কার হাতে উঠবে।
প্রথম ম্যাচে কিউইদের দাপট, পরেরটিতে বাংলাদেশের জবাব
সিরিজের শুরুতে নিয়ন্ত্রণ ছিল নিউজিল্যান্ডের হাতে। প্রথম ওয়ানডেতে তারা স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই চিত্র পাল্টে যায় পুরোপুরি।
বাংলাদেশ ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই পরিমিত ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৬ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয়। এতে শুধু সমতা ফেরেনি, দলের ভেতরেও নতুন করে বিশ্বাস ফিরে এসেছে। ফলে শেষ ম্যাচটি এখন অঘোষিত ফাইনালের রূপ নিয়েছে।
চট্টগ্রামের আগে বাংলাদেশ দলে নতুন চমক
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচকে সামনে রেখে দুই দলই ইতোমধ্যে ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ শিবিরে এসেছে একটি নতুন সংযোজন।
শেষ ওয়ানডের জন্য দলে ডাকা হয়েছে তরুণ গতিময় পেসার তানজিম সাকিবকে। ধারণা করা হচ্ছে, চট্টগ্রামের উইকেটে বোলিং আক্রমণে বাড়তি গতি ও বৈচিত্র্য আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে একাদশ নির্বাচনে নতুন হিসাবও যোগ হলো।
দুই দলের সামনে এখন আলাদা চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্য হবে দ্বিতীয় ম্যাচের ছন্দ ধরে রাখা। মিরপুরের ধীর উইকেটে প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা দেখা গেলেও পরের ম্যাচে তারা সেই ভুল অনেকটাই শুধরে নেয়। টপ অর্ডারের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং বোলারদের দলগত সাফল্য দলকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড চাইবে আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে। প্রথম ম্যাচে দাপট দেখালেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঝের ওভারগুলোতে তারা ছন্দ হারিয়ে ফেলে। তাই চট্টগ্রামে নেমে কিউইদের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে নামতেই হবে, যদি তারা সিরিজ নিজেদের করে নিতে চায়।
শেষ ম্যাচে বাড়তি চাপ, বাড়তি উত্তেজনা
যেহেতু দুই দলই এখন সমান জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাই শেষ ম্যাচের গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। একদিকে থাকবে বাংলাদেশের ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের থাকবে শুরুতে পাওয়া সুবিধা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের লড়াইয়ে উত্তেজনার ঘাটতি থাকার সুযোগ নেই। এখন দেখার বিষয়, সিরিজের শেষ ম্যাচে কারা নিজেদের স্নায়ু সামলে শেষ হাসি হাসতে পারে।