
নিউজিল্যান্ডকে দ্বিতীয় সারির দল বলা হলেও হিসাবটা আরও গভীর
বাংলাদেশ সফরে আসা নিউজিল্যান্ড দলকে ঘিরে গত কয়েক দিনে সবচেয়ে বেশি যে কথা শোনা গেছে, তা হলো এটি একটি দ্বিতীয় সারির দল। কোচ ও অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশ শিবির প্রকাশ্যে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে রাজি নয়।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স পরিষ্কার করে বলেছেন, দেশের হয়ে খেলতে নামা প্রতিটি দলকেই তিনি সমান গুরুত্ব দেন। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও একই সুরে জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তবু দল দুটির গঠন, বয়স এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখলে পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বয়সে কিছুটা সিনিয়র হলেও সবাই অভিজ্ঞ নন
নিউজিল্যান্ড দলে ৩০ বছরের বেশি বয়সী ক্রিকেটার আছেন আটজন। এর মধ্যে পাঁচজনই মূলত বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান। দলে সবচেয়ে বেশি বয়স টম ক্লিভারের, তাঁর বয়স ৩৪ বছর ১০৫ দিন। কিন্তু বয়স বেশি হলেই যে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও বেশি হবে, সেটি এই দলে সবসময় মিলছে না।
ক্লিভার নিজেই এর উদাহরণ। তাঁর বয়স বেশি হলেও নিউজিল্যান্ডের হয়ে তিনি খেলেছেন মাত্র একটি ওয়ানডে। টি ২০তে সুযোগ পেয়েছেন ১১ বার। অর্থাৎ, বয়সের বিচারে কিছু সিনিয়র মুখ থাকলেও পুরো দলটিকে অভিজ্ঞ বলা কঠিন।
বাংলাদেশের দলে সবচেয়ে বেশি বয়স সৌম্য সরকারের, ৩৩ বছর ৪৫ দিন। তাঁকে ছাড়া ৩০ পেরোনো ক্রিকেটার আছেন আরও তিনজন, লিটন দাস, মোস্তাফিজুর রহমান এবং তাসকিন আহমেদ। ফলে বয়সের হিসাবে দুই দলে খুব বড় ব্যবধান নেই, কিন্তু ম্যাচ অভিজ্ঞতায় পার্থক্য চোখে পড়ার মতো।
ওয়ানডে অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের পাল্লা অনেক ভারী
নিউজিল্যান্ড স্কোয়াডের ১৪ ক্রিকেটার মিলে মোট ৩৬৮টি ওয়ানডে খেলেছেন। তবে এই সংখ্যার বড় অংশই এসেছে অধিনায়ক টম ল্যাথামের কাছ থেকে, যিনি একাই খেলেছেন ১৬৩ ম্যাচ। তাঁকে বাদ দিলে দলের অভিজ্ঞতার ওজন অনেকটাই কমে যায়।
ল্যাথাম ছাড়া হেনরি নিকোলস ৮৪ এবং উইল ইয়াং ৫৫টি ম্যাচ খেলেছেন। বাকিদের কেউ ২০টির বেশি ওয়ানডে খেলেননি। আবার ১৪ জনের মধ্যে ছয়জনের ১০টির বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু বাকি আটজন এখনও সেই সীমাও পার করতে পারেননি।
বাংলাদেশ এই জায়গায় অনেক এগিয়ে। ১৫ জনের স্কোয়াডে মাত্র চারজন ১০টির কম ওয়ানডে খেলেছেন। পুরো দল মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ সংখ্যা ৭৬১, যা নিউজিল্যান্ডের প্রায় দ্বিগুণ।
বাংলাদেশের নির্ভরতার জায়গা অভিজ্ঞ কোর গ্রুপ
বাংলাদেশ দলে একাধিক ক্রিকেটার দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন। মোস্তাফিজুর রহমান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ১০০টির বেশি ওয়ানডে খেলেছেন। লিটন দাসের ম্যাচ সংখ্যা ৯৮, তাসকিন আহমেদের ৮৬, সৌম্য সরকারের ৭৯ এবং নাজমুল হোসেনের ৬১।
এই পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচ পরিস্থিতি সামলানো, চাপের সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সিরিজের গতি বোঝার দিক থেকে বাংলাদেশ তুলনায় বেশি প্রস্তুত। বিশেষ করে নিজেদের মাঠে খেলতে নামলে এই অভিজ্ঞতা আরও বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
তবু নিউজিল্যান্ডকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই
অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকলেও নিউজিল্যান্ডকে সহজ প্রতিপক্ষ ভাবার সুযোগ নেই। তাদের দলে কম ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার বেশি থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশে খেলার অভ্যাস এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান সবসময়ই শক্তিশালী।
তাই কাগজে কলমে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াই সহজ হবে না। অভিজ্ঞতার ভারে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে, তবে সিরিজে নিজেদের শ্রেষ্ঠতা প্রমাণ করতে হলে সেই অভিজ্ঞতাকে পারফরম্যান্সে বদলাতেই হবে।