বিশ্বকাপের আগে ফ্রান্স ও স্পেনকে সতর্কবার্তা দিল ছোট দলগুলো

আলজেরিয়ার পর আইভরিকোস্ট ও ইরাকও বড় দলকে ধাক্কা দিল

বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচেই বড় দলগুলোর জন্য অস্বস্তির শুরু হয়ে গেছে। রটারড্যামে আগের রাতে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথম সতর্ক সংকেত দিয়েছিল আলজেরিয়া। অনেকেই সেটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভেবেছিলেন, কিন্তু পরের রাতেই বোঝা গেল বিষয়টি এত সহজ নয়।

এবার একই ধরনের বার্তা পেল ফ্রান্স ও স্পেন। নঁতে নিজেদের মাঠে আইভরিকোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ ও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের তৃতীয় দল ফ্রান্স। অন্যদিকে র‍্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্পেন হার এড়ালেও ঘরের মাঠে ইরাকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে, যা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের জন্য বড় ধাক্কাই বলা যায়।

বিশ্বকাপের আগে টানা দুই রাতে তিনটি বড় দল অস্বস্তিকর ফল দেখল। র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৮তম আলজেরিয়া অষ্টম স্থানে থাকা নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পর এবার ৩৩তম আইভরিকোস্ট ও ৫৬তম ইরাকও বুঝিয়ে দিল, মূল পর্বে তথাকথিত ছোট দলগুলোকে হালকাভাবে নিলে বিপদ হতে পারে।

ফ্রান্সকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়াল আইভরিকোস্ট

ফ্রান্সের হয়ে ৪৫ মিনিটে গোল করেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির প্লেমেকার রায়ান শেরকি। প্রথমার্ধ শেষে মনে হয়েছিল দিদিয়ের দেশমের দল হয়তো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ছবি বদলে যায়।

ফ্রান্স কোচ গোলরক্ষক ছাড়া একাদশের বাকি প্রায় সবাইকে বিভিন্ন সময়ে বদলি করেন। সেই পরীক্ষার মধ্যেই ৫৩ মিনিটে গুয়েলা দুয়ের গোলে সমতায় ফেরে আইভরিকোস্ট। ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ে তখন বেঞ্চে বসে দেখছিলেন, তাঁর বড় ভাইয়ের গোলেই ম্যাচে ফিরে এসেছে আফ্রিকার দলটি।

৮৪ মিনিটে বদলি নেমে গোল করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড আমাদ দিয়ালো। সেই গোলেই এগিয়ে যায় আইভরিকোস্ট। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স।

কিলিয়ান এমবাপ্পে ম্যাচে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। বিরতির সময় তাঁকে তুলে নেন দেশম। আইভরিকোস্টের সাম্প্রতিক রক্ষণও নজর কাড়ার মতো। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তারা ১০ ম্যাচে অপরাজিত ছিল এবং কোনো গোলও হজম করেনি।

হার নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নয় ফরাসি শিবির

বিশ্বকাপ শুরুর আগে সোমবার রাতে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ফ্রান্স। আইভরিকোস্টের কাছে হারলেও ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস ফার্নান্দেজ খুব বেশি উদ্বেগ দেখাননি।

তিনি বলেছেন, দল সব সময় জিততে চায়, তবে এখন প্রস্তুতির সময় চলছে এবং ম্যাচে অনেক ফুটবলার বদল করা হয়েছে। তাঁর মতে, দলের মানসিক অবস্থা ঠিক আছে।

দেশমও হারের পর বলেছেন, পরাজয় কখনো ভালো লাগার নয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে অনেক পরিবর্তন করা হয়েছিল, যদিও এটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না তিনি। ফরাসি কোচ আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ১৬ জুন তাদের একই ধরনের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। নিউ জার্সিতে ১৬ জুন সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করবে ফ্রান্স। আই গ্রুপে ফ্রান্স ও সেনেগালের সঙ্গে আছে ইরাক ও নরওয়ে।

ইরাকের সামনে আটকে গেল স্পেন

১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ইরাক স্পেনের মাঠে দারুণ লড়াই করেছে। বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে এটিই ছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের শেষ ম্যাচ।

১৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। তবে ২৭ মিনিটে মেরচেস দোস্কির গোলে সমতা ফেরায় ইরাক। বিরতির আগে তোরেস বেশ কয়েকবার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর শট পাঁচবার ইরাকের পোস্টে লাগে।

ফ্রান্সের মতো স্পেনও এই ম্যাচে পরীক্ষা চালিয়েছে। লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস ও পেদ্রিকে বিশ্রাম দেন দে লা ফুয়েন্তে। প্রথম একাদশে থাকা সবাইকেই কোনো না কোনো সময় বদলি করা হয়। সাতজন ফুটবলারের অভিষেকও হয়, যারা বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেই।

ইরাকও একই পথ নেয়। তারাও প্রথম একাদশের সব খেলোয়াড়কে তুলে বেঞ্চের শক্তি দেখে নেয়।

স্পেনের ম্যাচে বদলির নতুন নজির

স্পেন ও ইরাক মিলিয়ে ম্যাচে ২২ জন খেলোয়াড় বদলি করা হয়। দুই দল মিলিয়ে মোট ৪৪ জন ফুটবলার মাঠে নামেন।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, স্পেন জাতীয় দলের ইতিহাসে এটি নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০০৪ সালে অ্যান্ডোরার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে ৪২ জন খেলোয়াড় মাঠে নেমেছিলেন।

বিশ্বকাপের আগে বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় পেরুর বিপক্ষে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে স্পেন। সেটিই হবে টুর্নামেন্টের আগে তাদের শেষ ম্যাচ। ১৫ জুন কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে স্পেন। এইচ গ্রুপে স্পেনের সঙ্গে আছে কেপ ভার্দে, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব।

এদিকে তুরস্কে আরেক প্রস্তুতি ম্যাচে মালিকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শেষ করেছে ইরান।

লেখক সম্পর্কে

১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন রাজেশ কুমার, সাধারণ খেলার ক্ষেত্রে দশকেরও বেশি বিশেষজ্ঞতা সম্পন্ন অভিজ্ঞতা সহ এক পুরস্কৃত প্রাধিকর্তা। ২০০৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খেলার বিজ্ঞানে স্নাতক সমাপ্ত করার পর, কুমার ভারতবর্ষের বিভিন্ন খেলার একাডেমির সাথে সম্পর্কিত হয়েছেন, প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াগুলির মাধ্যমে করে, তিনি তার অভ্যাসে বৈশ্বিক পদ্ধতিগুলি অবলম্ব করেছেন। রাজেশ বর্তমানে সাংবাদিকতায় নিযুক্ত, দৈনন্দিন খেলাধুলা নিয়ে নিবন্ধ লেখেন এবং Betting.BC.Game-এর প্রধান সম্পাদক।

আপনার মন্তব্য ছেড়ে দিন
সবাই আপনার মন্তব্য দেখতে পাবেন