
জাতীয় দলের প্রত্যাবর্তন
৫৫ মাস পর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিরে এসেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ৫ জুন ২০২৫-এ ভুটানের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জয়ে লাল-সবুজের ঢেউ উড়েছে গ্যালারিতে। এই জয়ের নায়ক ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া হামজা চৌধুরী, যিনি প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত গোল করেছেন। জামাল ভূঁইয়া, তারিক কাজী, কাজেম শাহ, ফাহামিদুল ইসলাম, শমিত সোম—বর্তমানে ছয়জন প্রবাসী দলে। অপেক্ষায় কিউবা মিচেলসহ আরও কয়েকজন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের নিয়ে উচ্ছ্বাস, কিন্তু এই উৎসবের পিছনে লুকিয়ে আছে ঘরোয়া ফুটবলের বিবর্ণ বাস্তবতা।
ঘরোয়া ফুটবলের দুর্দশা
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অনেক ক্লাবের নেই নিজস্ব মাঠ, সমর্থক বা পৃষ্ঠপোষক। ফুটবলাররা নিয়মিত বেতন পান না, ধর্মঘটে যেতে হয়। নিম্ন লিগগুলো অনিয়মিত, ঢাকার ঘরোয়া ফুটবল প্রায় মৃত। ২০২৪-এর সরকার বদলের পর দুটি ক্লাব প্রিমিয়ার লিগ ছেড়েছে। ক্লাবগুলোর নেই একাডেমি বা পেশাদার অবকাঠামো। রেফারিরা পারিশ্রমিকের জন্য ধর্মঘট করেন, কোচরা অবহেলিত। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (BFF) শুধু জাতীয় দল নিয়ে ব্যস্ত, ঘরোয়া কাঠামো উপেক্ষিত। ভুটানের অধিনায়ক লিমা দাবি করেছেন, “বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দল,” কিন্তু এটা কি বাস্তব, নাকি ক্ষণিকের মায়া?
প্রবাসীদের ভূমিকা
হামজা চৌধুরীর মতো প্রবাসী ফুটবলাররা জাতীয় দলকে শক্তি দিচ্ছেন। ইংল্যান্ড, ডেনমার্ক, কানাডা, ইতালিতে বেড়ে ওঠা এই প্রতিভারা দলকে উন্নত করছেন, কিন্তু তাঁরা কি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান? জাতীয় দলের ২৩ জনের স্কোয়াডে অর্ধেক প্রবাসী হতে পারে, তবে ঘরোয়া ফুটবলের দুর্বলতা ঢাকা পড়ে না। হামজার গোল (১টি, ২ ম্যাচ) বা জামাল ভূঁইয়ার অভিজ্ঞতা (৪৫ ক্যাপ) উৎসাহ জাগায়, কিন্তু শত শত স্থানীয় প্রতিভার বিকাশ ছাড়া ফুটবলের ভবিষ্যৎ নেই। কিশোর লিগ, অঞ্চলভিত্তিক প্রতিযোগিতা বা কোচিংয়ের অভাবে তৃণমূল ফুটবল স্থবির।
চ্যালেঞ্জ ও সমাধান
প্রবাসী ফুটবলাররা অক্সিজেনের মতো ক্ষণিক শক্তি দিচ্ছেন, কিন্তু ফুটবলের মুক্তির জন্য শক্ত ভিত লাগবে। দরকার:
- কিশোর লিগ ও একাডেমি: বর্তমানে কোনো কার্যকর কিশোর লিগ নেই। ক্লাবগুলোর একাডেমি গড়ে তুলতে হবে।
- অবকাঠামো: প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর জন্য নিজস্ব মাঠ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাধ্যতামূলক করতে হবে।
- কোচিং ও রেফারি: প্রশিক্ষিত কোচ ও রেফারিদের জন্য প্রণোদনা ও নিয়মিত পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে হবে।
- পৃষ্ঠপোষকতা: বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যেমন আইপিএল ২০২৫-এ RCB-এর সাফল্যে দেখা গেছে।
BFF-এর জাতীয় দলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে ঘরোয়া ফুটবলে বিনিয়োগ করতে হবে। X-এ @BD_Football_Fans হামজার প্রশংসা করলেও ঘরোয়া লিগের “মৃত্যু” নিয়ে উদ্বিগ্ন।
কী হবে এগিয়ে?
হামজা চৌধুরীর মতো প্রবাসীরা বাংলাদেশকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে (২০২৬) প্রতিযোগিতামূলক করতে পারে, কিন্তু ঘরোয়া ফুটবলের পুনর্গঠন ছাড়া এটি ক্ষণিকের আলো। BFF-এর উচিত ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ক্লাবগুলোর জন্য ন্যূনতম অবকাঠামো বাধ্যতামূলক করা। কিশোর লিগ পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, যেমন ভারতের ISL-এর মডেল। প্রবাসীদের সাথে স্থানীয় প্রতিভার মিশ্রণ, যেমন রাকিব হোসেন (৪ গোল, ১০ ম্যাচ), দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য আনতে পারে। ভুটানের বিপক্ষে জয় উৎসবের, কিন্তু বাংলাদেশ ফুটবলের ভিত গড়তে না পারলে এটি শুধু অক্সিজেনের শ্বাস।