
ভালো শুরুর পরও রান তাড়ায় ভেঙে পড়ে ইনিংস
নিউজিল্যান্ড ২৪৮ রানের লক্ষ্য দেওয়ার পর শুরুতে বাংলাদেশকে খুব একটা বিপদে মনে হয়নি। মিরপুরের উইকেটে লক্ষ্যটা কঠিন ছিল ঠিকই, তবে অজেয় নয়। ২৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১২৪ রান তুলে দল তখন ম্যাচের ভিত গড়ে ফেলেছিল। প্রয়োজন ছিল হিসেবি ব্যাটিং, স্ট্রাইক ঘোরানো আর মাঝেমধ্যে বাউন্ডারি এনে চাপ কমানো।
কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। রান তাড়ার ছন্দ একসময় পুরোপুরি থেমে যায়, আর বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে জয়ের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল, সেখান থেকেই ইনিংস ঢুকে পড়ে অচেনা অন্ধকারে।
ডট বলের ফাঁদে আটকে যায় পুরো ব্যাটিং লাইনআপ
বাংলাদেশের ইনিংসের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ডট বল। পুরো ইনিংসে ২৯১ বল খেলে ১৬৬টিতেই কোনো রান নিতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি বলে স্কোরবোর্ড একেবারেই নড়েনি। এমন চিত্র এক দিনের ক্রিকেটে রান তাড়ার সময় বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সবচেয়ে হতাশার জায়গা ছিল মাঝের অংশে টানা ৯০ বল কোনো বাউন্ডারি না আসা। এতে শুধু প্রয়োজনীয় রানের হারই বাড়েনি, ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ম্যাচ শেষে সাইফ হাসানও স্বীকার করেছেন, দৌড়ে রান নেওয়ার জায়গায় আরও উন্নতি দরকার। তবে এই সমস্যাটা নতুন নয়, বরং বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে এটি বড় দুর্বলতা হয়ে আছে।
মিডল অর্ডার এখন দলের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা
ওয়ানডেতে রান তাড়ার সময় মিডল অর্ডারের কাজ হলো ইনিংসকে ধরে রাখা, চাপ সামলানো এবং প্রয়োজনমতো গতি বাড়ানো। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই জায়গাটাই এখন সবচেয়ে অনিশ্চিত। গত এক বছরে ১১ ওয়ানডেতে মিডল অর্ডারে নামা ১৩ ব্যাটসম্যানের কেউই সেঞ্চুরি করতে পারেননি।
এই সময় তাদের সম্মিলিত গড় মাত্র ২৩.৪৪, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর সঙ্গে তুলনায় তো বটেই, সব ওয়ানডে দল মিলিয়েও বাংলাদেশের নিচে আছে শুধু কানাডা। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, সমস্যাটা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং দীর্ঘদিনের।
তাওহিদ হৃদয় ছাড়া ভরসা খুব কম
মিডল অর্ডারে যদি কাউকে কিছুটা নির্ভরযোগ্য বলা যায়, তিনি তাওহিদ হৃদয়। যদিও তাঁর কাছ থেকেও সেঞ্চুরি আসেনি, তবু গত এক বছরে ১০ ইনিংসে তিনি ৪১.৩৩ গড়ে রান করেছেন। মিডল অর্ডারে বাংলাদেশের সাতটি হাফ সেঞ্চুরির পাঁচটিই এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে।
অন্যদিকে, ঘাটতি মেটাতে আফিফ হোসেনকে আবার দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলে ফেরার পর তাঁকে ঘিরে আশা ছিল যথেষ্ট। কিন্তু জাতীয় দলে ফিরে তিনি পুরোনো সমস্যাই টেনে এনেছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ১৪ ও ৫ রানের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ৪৯ বলে ২৭ রান করে তিনি ইনিংসের গতি বাড়াতে পারেননি।
পুরোনো অসুখের শেষ কোথায়
২০২২ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮৫ রানের ইনিংসের পর আফিফ আর ধারাবাহিক হতে পারেননি। দীর্ঘ সময় ধরে বড় ইনিংস না আসা তাঁর অবস্থানকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। যাঁকে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছিল, তিনিও যখন ব্যর্থ, তখন বাংলাদেশের মিডল অর্ডার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
এই ম্যাচ আবারও দেখিয়ে দিল, শুধু উইকেট বা প্রতিপক্ষের বোলিং নয়, নিজেদের ব্যাটিং মানসিকতা ও রান নেওয়ার অভ্যাসও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ডট বল কমানো, স্ট্রাইক রোটেশন বাড়ানো এবং মিডল অর্ডারে স্থিতি ফেরানো ছাড়া এই দুর্ভোগ কাটানো কঠিন।