
সাকার গোলে বদলে গেল সেমি-ফাইনালের হিসাব
ম্যাচে লড়াই ছিল তীব্র, তবে পরিষ্কার সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি কোনো দল। সেই চাপের ভেতরেই বুকায়ো সাকা একবার বল জালে পাঠান, আর শেষ পর্যন্ত সেটিই আর্সেনালকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তুলে দেয়।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে সেমি-ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মিকেল আর্তেতার দল ১-০ গোলে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারায়। প্রথম লেগ ১-১ ড্র হয়েছিল, তাই দুই ম্যাচ মিলিয়ে আর্সেনালের জয় দাঁড়ায় ২-১।
প্রথমার্ধে আর্সেনালের দাপট
ম্যাচের শুরুতে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আর্সেনাল এগিয়ে ছিল। তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও শেষ পাস ও শটের ক্ষেত্রে বারবার ভুল করে।
আতলেতিকো মাদ্রিদ শুরু থেকেই রক্ষণ মজবুত রেখে প্রতি-আক্রমণের পরিকল্পনা নেয়। তবে প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে তাদের প্রতিরোধ ভেঙে যায়, যখন সাকা দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় আলগা বল জালে পাঠান।
আতলেতিকোর সুযোগ কাজে লাগেনি
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচের ছবিতে পরিবর্তন আসে। ৫১ মিনিটে জুলিয়ানো সিমেওনে বড় সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু গোলরক্ষককে কাটানোর পর শট নিতে দেরি করে ফেলেন তিনি। সেই মুহূর্তে গাব্রিয়েল মাগালিয়াইস আর্সেনালকে বাঁচান।
কিছুক্ষণ পর আতলেতিকো পেনাল্টির দাবি তোলে, তবে রেফারি তাতে সাড়া দেননি। পরে আঁতোয়ান গ্রিজমানের শট দাভিদ রায়া ঠেকিয়ে দেন, ফলে সমতা ফেরানোর রাস্তা আরও কঠিন হয়ে যায়।
ইয়োকেরেশ ও সরলথের মিস
৬৬ মিনিটে আর্সেনাল পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায়। বাম দিক থেকে পিয়েরো ইনকাপিয়ের ক্রসে ভিক্তর ইয়োকেরেশ শট নিলেও বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
শেষ দিকে আলেকসান্দার সরলথ আতলেতিকোর জন্য সবচেয়ে পরিষ্কার সুযোগ পান। ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও তিনি ঠিকমতো শট নিতে পারেননি, আর সেই ব্যর্থতার পর সফরকারীরা নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারেনি।
দ্বিতীয়বার ফাইনালে আর্সেনাল
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি আর্সেনালের দ্বিতীয় ফাইনাল। এর আগে ২০০৬ সালে তারা শেষ ধাপে উঠেছিল, কিন্তু সেবার বার্সেলোনার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল।
আতলেতিকো সর্বশেষ ২০১৬ সালে এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেলেছিল। এবার তাদের চতুর্থ ফাইনালে ওঠার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। ফাইনাল হবে ৩০ মে বুদাপেস্টে, যেখানে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ হবে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা পিএসজি।