
সেট পিস আর নয়্যারের অভিজ্ঞতা জার্মানিকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে
বিশ্বকাপ শুরুর আগে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের আলোচনায় জার্মানির নাম খুব বেশি জোর দিয়ে আসেনি। তবে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭ গোলের বড় জয় দেখিয়ে জার্মানরা বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের হিসাবের বাইরে রাখা নিরাপদ নয়। এই দলকে বিপজ্জনক করে তুলতে পারে কয়েকটি স্পষ্ট কারণ।
সেট পিসে জার্মানি আবারও ভয়ংকর দেখাচ্ছে। কর্নার কিংবা ফ্রি কিক থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করার মতো খেলোয়াড় তাদের আছে। সেট পিস কোচ ম্যাডস বুটগেরাইটের পরিকল্পনাও মাঠে কাজে লাগছে। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে নিকো শ্লটারবেকের গোল সেটির ভালো উদাহরণ। রক্ষণভাগ তাঁকে আটকে রাখার চেষ্টা করলেও নাথানিয়েল ব্রাউনের নিখুঁত পাসে তিনি হেড করে গোল করেন।
ম্যানুয়েল নয়্যারের অভিজ্ঞতাও জার্মানির বড় ভরসা। ম্যাচে তাঁকে খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি, যদিও একটি গোল হজম করেছেন। তবে সেই শটেও তিনি ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন। পরের ম্যাচে গোলকিপার হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়ার সুযোগ আছে নয়্যারের। বড় ম্যাচে তাঁর অভিজ্ঞতা জার্মানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
মুসিয়ালার ফর্ম ও নতুন মাঝমাঠ জার্মানিকে ছন্দ দিয়েছে
জামাল মুসিয়ালাকে নিয়ে জার্মান সংবাদমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে তিনি সেই সমালোচনার ভালো জবাব দিয়েছেন। বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা নিজের পরিচিত ড্রিবলিং, গতি ও বল নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।
ইউরো ২০২৪ এর পর জার্মানি মাঝমাঠ নতুনভাবে সাজিয়েছে। ফেলিক্স এনমেচা ও আলেকজান্ডার প্যাভলোভিচের জুটি কুরাসাওয়ের বিপক্ষে দারুণ বোঝাপড়া দেখিয়েছে। ছোট পাসে খেলা নিয়ন্ত্রণ, ছন্দ ধরে রাখা এবং বলের দখল বজায় রাখার কাজটি তারা ভালোভাবেই করেছে।
জার্মানির আরেকটি শক্তি হলো বিভিন্ন দিক থেকে গোল আসা। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৬ জন আলাদা খেলোয়াড় গোল করেছেন। কাই হাভার্টজ একাই করেছেন ২টি। একাধিক স্কোরার থাকা যেকোনো বড় টুর্নামেন্টে দলের জন্য বড় সুবিধা।
ব্রাউনের অভিষেক ও ভির্টৎসের নিঃস্বার্থ খেলা আশা বাড়িয়েছে
নাথানিয়েল ব্রাউন অভিষেকেই নিজের ছাপ রেখেছেন। আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের এই ফুলব্যাক গোল করেছেন এবং লেফটব্যাক পজিশনে নিজের দাবি আরও জোরালো করেছেন। ডেভিড রাউমের জায়গায় তিনি প্রথম পছন্দ হতে পারেন। পরিবারের সামনে গোল করাও তাঁর জন্য বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস গোল না পেলেও দলের খেলায় বড় অবদান রেখেছেন। ফেলিক্স এনমেচার গোল তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিল, তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ ছিল রক্ষণে তাঁর কাজ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে কুরাসাওয়ের একটি পাল্টা আক্রমণ থামিয়ে তিনি নিজের দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন।
লিভারপুলে সাম্প্রতিক বাজে পারফরম্যান্সের কারণে ভির্টৎস চাপের মধ্যে ছিলেন। তাই বিশ্বকাপে তাঁর ভালো শুরু দরকার ছিল। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে তিনি সেটি করতে পেরেছেন। সেট পিস, অভিজ্ঞতা, তরুণ প্রতিভা, নতুন মাঝমাঠ এবং বহুমুখী আক্রমণ মিলিয়ে জার্মানি এবার অনেকের প্রত্যাশার চেয়েও কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারে।