অনুশীলনের পরিকল্পনাতেই সূর্যবংশীর নির্ভীক ব্যাটিংয়ের ভিত্তি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় সিরিজেই রেকর্ড গড়েছেন ভারতের তরুণ ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি২০ ম্যাচে ৪৯ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন তিনি। তিন ম্যাচে দুটি অর্ধশতকের সাহায্যে সর্বোচ্চ ১৫১ রান করে জিতে নেন সিরিজসেরার পুরস্কারও।

১৫ বছর ১২১ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী সিরিজসেরা হওয়ার পর নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পেছনের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেছেন সূর্যবংশী।

অনুশীলনের শটই ম্যাচে খেলেন সূর্যবংশী

সূর্যবংশীর মতে, তাঁর নির্ভীক ব্যাটিংয়ের পেছনে আলাদা কোনো গোপন কৌশল নেই। অনুশীলনের সময় যেসব শট নিয়মিত খেলেন, ম্যাচেও সেগুলোই প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন তিনি।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান জানান, ম্যাচে নতুন কিছু করার পরিবর্তে অনুশীলনে তৈরি করা পরিকল্পনা অনুসরণ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য থাকে।

শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সূর্যবংশীর ব্যাটিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে ব্যক্তিগতভাবে দ্রুত রান করার চেয়ে দলের জন্য ভালো শুরু এনে দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।

সূর্যবংশী জানিয়েছেন, টি২০ ক্রিকেটে নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ধরন বজায় রেখে তিন ম্যাচেই দলকে শক্ত অবস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ভালো শুরু পাওয়ার পর সেই ইনিংসকে বড় করাই ছিল তাঁর মূল পরিকল্পনা।

জিম্বাবুয়ে সিরিজে সর্বোচ্চ রান

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই পরিকল্পনা সফলভাবে কাজে লাগিয়েছেন সূর্যবংশী। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতক করার পর তৃতীয় ম্যাচে খেলেন ৪৯ বলে ৮১ রানের ইনিংস।

তিন ম্যাচে তিনি মোকাবিলা করেছেন মাত্র ৭৭টি বল। তাতেই ১৫১ রান করে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

ভারত সিরিজটি ৩ ম্যাচে ৩ জয় নিয়ে শেষ করেছে। দলের এমন সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখায় ম্যাচসেরা পুরস্কারের পাশাপাশি সিরিজসেরার স্বীকৃতিও পেয়েছেন সূর্যবংশী।

মুজিবের আট বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ভারতীয় ওপেনার

সিরিজসেরা হয়ে আফগানিস্তানের স্পিনার মুজিব উর রহমানের আট বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙেছেন বিহারের এই ক্রিকেটার।

২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ১৬ বছর ৩২৫ দিন বয়সে সিরিজসেরা হয়েছিলেন মুজিব। সূর্যবংশী তাঁর চেয়ে এক বছরেরও বেশি কম বয়সে এই অর্জন নিজের নামে লিখিয়েছেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল সূর্যবংশীর। তবে সেই সিরিজের তিন ম্যাচেই তাঁর ইনিংস ১৫ রানের মধ্যে থেমে গিয়েছিল।

জিম্বাবুয়ে সফরে প্রথম ম্যাচসেরা ও প্রথম সিরিজসেরার পুরস্কার পাওয়াকে স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন তিনি। এই সাফল্যে নিজের আনন্দের কথাও জানিয়েছেন তরুণ ব্যাটসম্যান।

কঠিন উইকেটে পরিণত ব্যাটিংয়ের প্রশংসা লক্ষ্মণের

ভারতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ ভিভিএস লক্ষ্মণ মনে করেন, শুধু রান নয়, উইকেট ও ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করাই ছিল সূর্যবংশীর বড় অর্জন।

তৃতীয় ম্যাচের উইকেট ধীরগতির ছিল এবং বল ব্যাটে আসার আগে থেমে যাচ্ছিল। জিম্বাবুয়ের বোলাররাও সূর্যবংশীকে আটকে রাখার জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন।

লক্ষ্মণের মতে, সূর্যবংশী সেই কৌশল বুঝে ধৈর্য ও আক্রমণের সঠিক সমন্বয় করেছেন। এ কারণেই তাঁর ৮১ রানের ইনিংসটিকে অত্যন্ত পরিণত বলে মনে হয়েছে ভারতীয় কোচের।

গত মৌসুমে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএলে খেলার সময়ই চাপ সামলানোর দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছিলেন সূর্যবংশী। লক্ষ্মণ মনে করেন, আইপিএলের একটি ম্যাচেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতো চাপ থাকে।

মাত্র ১৪ বা ১৫ বছর বয়সে এমন বড় মঞ্চে অনেক খেলোয়াড় চাপের কাছে হার মানতে পারে। সূর্যবংশী সেই চাপকে নিজের শক্তিতে পরিণত করেছেন। তাই জিম্বাবুয়ে সিরিজে তাঁর এমন পারফরম্যান্সে বিস্মিত হননি লক্ষ্মণ।

লেখক সম্পর্কে

১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন রাজেশ কুমার, সাধারণ খেলার ক্ষেত্রে দশকেরও বেশি বিশেষজ্ঞতা সম্পন্ন অভিজ্ঞতা সহ এক পুরস্কৃত প্রাধিকর্তা। ২০০৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খেলার বিজ্ঞানে স্নাতক সমাপ্ত করার পর, কুমার ভারতবর্ষের বিভিন্ন খেলার একাডেমির সাথে সম্পর্কিত হয়েছেন, প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াগুলির মাধ্যমে করে, তিনি তার অভ্যাসে বৈশ্বিক পদ্ধতিগুলি অবলম্ব করেছেন। রাজেশ বর্তমানে সাংবাদিকতায় নিযুক্ত, দৈনন্দিন খেলাধুলা নিয়ে নিবন্ধ লেখেন এবং Betting.BC.Game-এর প্রধান সম্পাদক।

আপনার মন্তব্য ছেড়ে দিন
সবাই আপনার মন্তব্য দেখতে পাবেন