
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে হলে কোন দুই ফুটবলারকে সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, তা ভালোভাবেই জানেন লিওনেল স্কালোনি। সেমিফাইনালের আগের দিন আর্জেন্টিনার কোচ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইনকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করেছেন তিনি।
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই দুই তারকার ওপর ভর করেই ৬০ বছর পর আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দলটির সাফল্যের পেছনে বেলিংহ্যাম ও কেইনের অবদান সবচেয়ে বেশি।
বেলিংহ্যামের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স যেন রূপকথা
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইংল্যান্ডের মূল একাদশে বেলিংহ্যামের জায়গা পুরোপুরি নিশ্চিত ছিল না। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো খেলার পর তিনি কোচের আস্থা অর্জন করেন এবং বিশ্বকাপের শুরুর একাদশে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন।
মূল পর্বে নামার পর তার পারফরম্যান্স অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত ছয়টি গোল করেছেন এই মিডফিল্ডার। ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে কোনো মিডফিল্ডার এর আগে এত গোল করতে পারেননি। এর পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তাও করেছেন তিনি।
শেষ ষোলো এবং কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচে বেলিংহ্যাম দুটি করে গোল করে ইংল্যান্ডের জয়ের প্রধান নায়ক হন।
শুধু আক্রমণেই নয়, রক্ষণ, মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ এবং বল পুনরুদ্ধারেও তার প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় পুরো মাঠজুড়েই তার উপস্থিতি ইংল্যান্ডের খেলায় বড় পার্থক্য তৈরি করেছে।
গোলের দায়িত্বে বরাবরের মতো সফল কেইন
হ্যারি কেইনের প্রধান দায়িত্ব গোল করা এবং বিশ্বকাপেও তিনি সেই কাজ দক্ষতার সঙ্গে করে চলেছেন।
ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে ছয়বার জালের দেখা পেয়েছেন। বেলিংহ্যামের মতো তার নামের পাশেও একটি অ্যাসিস্ট রয়েছে।
কেইনের বক্সের ভেতরের কার্যকারিতা, বল ধরে রাখার ক্ষমতা এবং সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরির দক্ষতা ইংল্যান্ডের আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এই দুই ফুটবলার যে আর্জেন্টিনার পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন, তা অনুমান করাই যায়। ম্যাচের আগের দিন স্কালোনিও নিশ্চিত করেছেন, ইংল্যান্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়কে থামানোর জন্য তার দল প্রস্তুত।
নিজেদের শক্তি দিয়ে ইংলিশ তারকাদের আটকে রাখতে চায় আর্জেন্টিনা
স্কালোনি বেলিংহ্যাম ও কেইনকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের মধ্যে রেখেছেন।
আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, “তারা দুজনই অসাধারণ খেলোয়াড়। বিশ্বের সেরাদের তালিকায় তাদের জায়গা থাকবে। যেকোনো কোচই এমন ফুটবলারকে নিজের দলে চাইবেন।”
তিনি আরও জানান, আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচিত কৌশল ব্যবহার করেই এই দুই তারকার প্রভাব কমানোর চেষ্টা করবে।
“আমরা নিজেদের অস্ত্র দিয়ে তাদের নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করব। তাদের যেন স্বাভাবিক খেলা খেলতে না দেওয়া হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। তাদের আটকানোর জন্য পরিকল্পনা আছে এবং আশা করছি ম্যাচে আমরা সেটি বাস্তবায়ন করতে পারব।”
নকআউট পর্বের লড়াই থেকে আত্মবিশ্বাস নিচ্ছে আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের তিনটি ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
প্রতিটি ম্যাচে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন, তবে দলটি চাপ সামলে জয়ের পথ খুঁজে নিয়েছে। কখনও রক্ষণে ধৈর্য দেখিয়েছে, কখনও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, আবার কখনও আক্রমণভাগের ব্যক্তিগত দক্ষতা ফল নির্ধারণ করেছে।
লিওনেল মেসি এবং দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা প্রতিটি বাধা পার হতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তাদের কাছ থেকে একই মানের পারফরম্যান্স আশা করছেন স্কালোনি।
বল দখলে রেখে নিজেদের ফুটবল খেলতে চায় আর্জেন্টিনা
স্কালোনি জানিয়েছেন, তার দলের মধ্যে ফাইনালে ওঠার তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তবে শুধু আবেগ নয়, মাঠে নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলাই হবে আর্জেন্টিনার প্রধান লক্ষ্য।
“আমাদের মধ্যে প্রবল তাড়না এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। আমাদের ফুটবল খেলতে হবে, বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এই জায়গাতেই আমরা সব সময় সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী।”
আর্জেন্টিনা কোচ আরও বলেন, ইংল্যান্ডকে হারাতে হলে পুরো দলকেই নিজেদের সেরা মানে খেলতে হবে।
“আমাদের প্রয়োজন সব ফুটবলারকে তাদের সেরা অবস্থায় পাওয়া। বিশেষ করে যারা আমাদের ভালো ফুটবল খেলতে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের এই ম্যাচেও একই রূপে দেখতে চাই।”