
চলতি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে থেমে গেছে নরওয়ের দুর্দান্ত যাত্রা। মিয়ামিতে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ানো ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় দলটি। জুড বেলিংহামের দুই গোল ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেয়।
নিজের দলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেলেও বাকি ম্যাচগুলোতে নিরপেক্ষ দর্শক হয়ে থাকতে চান না আর্লিং হালান্ড। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা স্ট্রাইকার।
ইংল্যান্ডের প্রতি আলাদা টান রয়েছে হালান্ডের
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে হালান্ডকে জিজ্ঞেস করা হয়, বিশ্বকাপের বাকি অংশে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষে থাকবেন কি না।
জবাবে নরওয়ের অধিনায়ক জানান, ইংল্যান্ডের দলে তার ম্যানচেস্টার সিটির দুই সতীর্থ রয়েছেন। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও স্পেনের দলেও তার ক্লাব সতীর্থরা খেলছেন। তাই পরিচিত সব খেলোয়াড়ের সাফল্যই তিনি কামনা করেন।
তবে আবেগের জায়গা থেকে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকবে বলে স্বীকার করেছেন হালান্ড। ছোটবেলার স্মৃতি এবং দেশটির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কারণে ইংল্যান্ড তার কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
হালান্ড বলেন, শৈশবে নরওয়ের জার্সি পাওয়ার আগেই তার কাছে ইংল্যান্ডের একটি জার্সি ছিল। ফলে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের প্রতি তার আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল।
বেলিংহামের প্রশংসায় হালান্ড
নরওয়ের বিপক্ষে দুই গোল করা জুড বেলিংহামের প্রশংসাও করেছেন হালান্ড। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে দুই মৌসুম একসঙ্গে খেলার কারণে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
হালান্ডের মতে, বেলিংহাম শুধু অসাধারণ ফুটবলার নন, ব্যক্তিগত জীবনেও খুব ভালো মানুষ। ডর্টমুন্ডে কাটানো সময়ের পরও তাদের সম্পর্ক অটুট রয়েছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলিংহামের পারফরম্যান্স দেখে মোটেও বিস্মিত হননি হালান্ড। বরং ইংলিশ মিডফিল্ডারকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া সমালোচনা তাকে বেশি অবাক করেছে।
নরওয়ের তারকা মনে করেন, বেলিংহামের মতো একজন ফুটবলারকে দলে পাওয়া ইংল্যান্ডের জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা এবং চাপের মধ্যে ফল এনে দেওয়ার দক্ষতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
আর্জেন্টিনার সামনে এবার ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ম্যাচটি আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ১৫ জুলাই স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় শুরু হবে। বাংলাদেশে তখন ১৬ জুলাই রাত ১টা।
ইংল্যান্ড নরওয়েকে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে দশজনের সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে।
এই ম্যাচের জয়ী দল ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যকার প্রথম সেমিফাইনালের বিজয়ীর বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে।
জন্মসূত্রেও ইংল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক
ইংল্যান্ডের প্রতি হালান্ডের ভালোবাসা শুধু ক্লাব ফুটবলের কারণে নয়। ২০০০ সালের ২১ জুলাই ইংল্যান্ডের লিডস শহরে তার জন্ম হয়। সেই সময় তার বাবা আলফ ইঙ্গে হালান্ড লিডস ইউনাইটেডের হয়ে খেলতেন।
মাত্র তিন বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নরওয়েতে ফিরে যান হালান্ড। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন এবং পরে নরওয়ের জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে জন্মস্থান, শৈশবের স্মৃতি এবং ইংলিশ ফুটবলে দীর্ঘ সময় কাটানোর কারণে দেশটির সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনোই হারিয়ে যায়নি। নরওয়ের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার পর সেই পুরোনো আবেগ থেকেই এবার ইংল্যান্ডকে সমর্থন করবেন তিনি।