
দুই জনপ্রিয় দলের লড়াইয়ে বিভক্ত সমর্থকদের অনুভূতি
বিশ্বকাপের শেষ ৩২ পর্বে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও জাপান। ম্যাচটি শুধু দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও এটি বিশেষ আকর্ষণের।
দেশে ব্রাজিলের সমর্থক বরাবরই বিপুল। তবে জাপানও দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষ দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করেছে। এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে ধারাবাহিক সাফল্য, শৃঙ্খলাপূর্ণ ফুটবল এবং দৃষ্টিনন্দন খেলার কারণে অনেকেই জাপানের প্রতিও আলাদা টান অনুভব করেন। তাই এই ম্যাচে অনেক সমর্থকের মনই দুই ভাগে বিভক্ত।
এমন পরিস্থিতির সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি জিকো। তাঁর মতে, ব্রাজিল জিতলে আনন্দ হবে, আর জাপান জিতলেও খুব বেশি কষ্ট পাবেন না। কারণ, দুটি দেশের ফুটবলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কই বিশেষ।
জাপানের ফুটবলে জিকোর অবদান আজও স্মরণীয়
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসে জাপানের তুলনা না হলেও দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তৈরি করেছিলেন জিকো।
ফ্ল্যামেঙ্গো ছাড়ার পর তিনি জাপানের কাশিমা অ্যান্টলার্সে যোগ দেন। সেই সময় দেশটির পেশাদার ফুটবল কাঠামো গড়ে ওঠার পথে ছিল। জিকোর নেতৃত্ব ও প্রভাবের মধ্য দিয়েই জে লিগের যাত্রা শুরু হয় এবং আধুনিক জাপানি ফুটবলের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়।
আজও কাশিমা শহরে তাঁর দুটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য রয়েছে। অনেক জাপানি মনে করেন, দেশটির ফুটবল ইতিহাসকে জিকোর আগে ও পরে এই দুই সময়ে ভাগ করা যায়।
কোচ ও খেলোয়াড়দের চোখে কঠিন পরীক্ষা
জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু ব্রাজিলকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, নকআউট পর্বে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে এবং তাঁর দলও জয় পাওয়ার সামর্থ্য রাখে।
অন্যদিকে জাপানের ফরোয়ার্ড তাকুমি মিনামিনো মনে করেন, আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামা তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে। তাঁর বিশ্বাস, আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারলে জাপান বড় চমক দেখাতে সক্ষম।
ব্রাজিল আত্মবিশ্বাসী, তবে সতর্ক থাকার পরামর্শ জিকোর
দুই দলের আগের ১৪ দেখায় ব্রাজিল জিতেছে ১১টি ম্যাচে। দুটি ড্র হয়েছে এবং সর্বশেষ লড়াইয়ে জয় পেয়েছিল জাপান। সেই ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল।
জিকোর মতে, জাপানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের গতি, পরিশ্রম এবং নিরন্তর পজিশন পরিবর্তন। তাই ব্রাজিলকে পুরো ম্যাচে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শেষ দুই ম্যাচে ব্রাজিল আবার নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরেছে। জিকোর ধারণা, কার্লো আনচেলত্তি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে যে একাদশ খেলিয়েছিলেন, সেটিই আবার ব্যবহার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে নেইমারকে আগের ম্যাচের মতোই বদলি হিসেবে নামানো হতে পারে।
তবে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাতেউস কুনিয়ার দারুণ ফর্ম এবং নেইমারের অভিজ্ঞতা দলটিকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। অন্যদিকে জাপান চাইবে ১৯৯৬ অলিম্পিকে ব্রাজিলকে হারানোর স্মৃতি নতুন করে ফিরিয়ে আনতে। এবার হিউস্টনে তারা আরেকটি বড় অঘটনের স্বপ্ন দেখছে।