
নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম এত তাড়াতাড়ি টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে এই হতাশাজনক ফলের পরও প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি মনে করছেন, এটি কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং একটি নতুন পথচলার সূচনা।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হারের পর ইতালিয়ান কোচ স্বীকার করেন, পুরো দলই ফলাফলে ভীষণ হতাশ। তবুও তার বিশ্বাস, ম্যাচের চিত্র বিবেচনা করলে ব্রাজিল আরও ভালো ফল পাওয়ার যোগ্য ছিল।
ফল হতাশাজনক হলেও দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিক দেখছেন কোচ
আনচেলত্তির মতে, ব্রাজিল অসাধারণ বিশ্বকাপ না খেললেও মোটের ওপর ভালো একটি টুর্নামেন্ট কাটিয়েছে। তার দাবি, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি জেতার মতো সুযোগ তাদের ছিল।
প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি মিস ব্রাজিলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে আর্লিং হালান্ড দুটি গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও সেটি শুধুই ব্যবধান কমাতে সাহায্য করে।
পরিসংখ্যানও ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের ইঙ্গিত। বলের দখলে পিছিয়ে থাকলেও ব্রাজিল গোলের উদ্দেশ্যে বেশি শট নেয় এবং প্রতিপক্ষের তুলনায় বেশি সুযোগও তৈরি করে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে চান না আনচেলত্তি
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সঙ্গে আনচেলত্তির চুক্তি রয়েছে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তাই একটি হতাশাজনক ফলের কারণে নিজের পরিকল্পনা বদলানোর কোনো কারণ দেখছেন না তিনি।
তার ভাষায়, এমন পরাজয় মেনে নেওয়া কঠিন হলেও এগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দলকে আরও উন্নত করতে নতুন ধারণা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
আনচেলত্তি বিশ্বাস করেন, বর্তমান স্কোয়াডের সামর্থ্য ছিল বিশ্বকাপে আরও অনেক দূর যাওয়ার। তার মতে, এই দল শেষ পর্যন্ত শিরোপার জন্যও লড়াই করতে পারত।
এই হারের ফলে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা অন্তত ২৮ বছরে পৌঁছাবে। পাশাপাশি ২০০২ সালের ফাইনালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা সপ্তম পরাজয়ের রেকর্ডও যোগ হয়েছে।
সবকিছুর পরও আনচেলত্তি আত্মবিশ্বাস হারাননি। তিনি মনে করেন, এই ব্যর্থতা ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে। কোচের মতে, দলকে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে, নিজেদের আরও উন্নত করতে হবে এবং এই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণায় পরিণত করতে হবে।