
অঘটনের নায়ক ব্লেসিং মুজারাবানি
প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক অবিশ্বাস্য অঘটন ঘটল। জিম্বাবুয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারিয়ে দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। সিকান্দার রাজার দল প্রথমে ব্যাট করে ২ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে। ব্রায়ান বেনেট ৫৬ বলে অপরাজিত ৬৪ রান করেন। তাদিওয়ানাশে মারুমানি ২১ বলে ৩৫, রায়ান বার্ল ৩০ বলে ৩৫ এবং রাজা অপরাজিত ১৩ বলে ২৫ রান যোগ করেন।
জবাবে অস্ট্রেলিয়া ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয়। ব্লেসিং মুজারাবানি ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। জস ইংলিস, ট্রাভিস হেড, ক্যামরন গ্রিন ও টিম ডেভিডকে তিনি ফিরিয়ে দেন। ব্র্যাড ইভানস ৩.৩ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন। ম্যাট রেনশ ৪৪ বলে ৬৫ রান করলেও অস্ট্রেলিয়া জয়ের কাছে পৌঁছাতে পারেনি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও দলের পারফরম্যান্স
এই জয় জিম্বাবুয়ের জন্য বিশেষ। ২০০৭ সালে কেপটাউনে তারা অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল। আজ দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তারা প্রমাণ করল যে ছোট দল হলেও তারা এখনো লড়াই করতে পারে। গত বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারলেও এবার তারা দারুণ ফিরে এসেছে।
ব্রেন্ডন টেলর হ্যামস্ট্রিং চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও মাঠের বাইরে থেকে এই জয় উপভোগ করেছেন। ১৯৮৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও জিম্বাবুয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল। এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার শুরুতে ৪.৩ ওভারে ৪ উইকেট পড়ে যায়। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাট রেনশ ৫৯ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়লেও পরে বার্লের বলে ম্যাক্সওয়েল বোল্ড হন।
গ্রুপের অবস্থান ও পরবর্তী সম্ভাবনা
জিম্বাবুয়ে টানা দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ বি-তে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে। নেট রান রেট ১.৯৮৪। শ্রীলঙ্কাও ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে (নেট রান রেট ৩.১২৫)। অস্ট্রেলিয়া ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে। তাদের পরের ম্যাচ শ্রীলঙ্কা ও ওমানের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কার কাছে হারলে সুপার এইটের পথ অনেকটা বন্ধ হয়ে যাবে।
জিম্বাবুয়ের ফিল্ডিংও দারুণ ছিল। তারা দুটি নিশ্চিত বাউন্ডারি বাঁচায় এবং বেন ডারউইশের দুর্দান্ত ক্যাচ নেয়। এই জয় সুপার এইটে ওঠার পথকে আরও সহজ করে দিয়েছে।