
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ থেকে ২-১ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়ে ফিরেছে বায়ার্ন মিউনিখ। এই জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার, যার একের পর এক সেভে বহুবার হতাশ হয়েছেন রিয়ালের আক্রমণভাগ।
ম্যাচ শেষে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন, এমন বড় রাতে নয়্যারের মতো একজনের বিশেষ পারফরম্যান্সই পার্থক্য গড়ে দেয়।
নয়্যারই ছিলেন জয়ের বড় ভরসা
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলতে নেমে বায়ার্ন জানত, রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণ ঠেকানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কঠিন পরীক্ষায় সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন নয়্যার।
কিলিয়ান এমবাপেসহ রিয়ালের একাধিক বিপজ্জনক আক্রমণ রুখে দিয়ে তিনি দলকে ম্যাচে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত তার পারফরম্যান্সই তাকে ম্যাচসেরার স্বীকৃতি এনে দেয়।
কোম্পানি বললেন, এমন ম্যাচে বিশেষ কিছু লাগেই
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি নয়্যারের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, যদি দলের সেরা খেলোয়াড় নয়্যার হন, তাহলে সেটি তার কাছে কোনো সমস্যা নয়। বরং এমন পর্যায়ের বড় ম্যাচে এই ধরনের বিশেষ পারফরম্যান্সই প্রয়োজন হয়।
তার কথায় বোঝা গেছে, কোচ হিসেবে তিনি খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করছেন যে ইউরোপের বড় রাতগুলোতে শুধু দলগত খেলা নয়, ব্যক্তিগত উজ্জ্বলতাও সমান জরুরি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারেও নয়্যারের মান অটুট
কোম্পানি শুধু এই ম্যাচ নিয়েই নয়, নয়্যারের দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়েও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নয়্যার সেই বিরল কজনের একজন, যিনি শুধু কিছু সময়ের জন্য নয়, বরং বহু বছর ধরে একই মান ধরে রেখেছেন।
বায়ার্ন কোচের মতে, আজও নয়্যার যেভাবে পারফর্ম করছেন, তা খুব বেশি শীর্ষ গোলরক্ষকও ধারাবাহিকভাবে করতে পারেন না। এই মন্তব্যে স্পষ্ট, নয়্যারকে তিনি শুধু অভিজ্ঞ বলে মূল্য দিচ্ছেন না, এখনও বিশ্বমানের গোলরক্ষক হিসেবেই দেখছেন।
বার্নাব্যুর জয় নিয়ে সন্তুষ্ট বায়ার্ন কোচ
রিয়াল একসময় ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করেছে এবং এমবাপের গোলে ব্যবধানও কমিয়েছে, তবে তবু কোম্পানি এই জয় নিয়ে যথেষ্ট সন্তুষ্ট। তার মতে, বার্নাব্যুর মতো মাঠে জেতা নিজেই বড় অর্জন।
তবে তিনি এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি। দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে নামার আগে রিয়ালের মান সম্পর্কে পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই এগোতে চায় বায়ার্ন।
হ্যারি কেইনের সতর্ক বার্তা
মৌসুমে নিজের ৪৯তম গোল করা হ্যারি কেইনও জয়ে খুশি, কিন্তু একই সঙ্গে সতর্ক। তার মতে, এক গোলের লিড কখনও নিরাপদ নয়, বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যদি রিয়াল মাদ্রিদের মতো দল হয়।
তিনি বলেছেন, বায়ার্ন এই ম্যাচে খুব ভালো খেলেছে এবং দ্বিতীয় লেগেও একই মান ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ দলে আত্মবিশ্বাস আছে, কিন্তু আত্মতুষ্টি নেই।
দ্বিতীয় লেগের আগে এগিয়ে বায়ার্ন, তবে কাজ এখনও বাকি
প্রথম লেগের ফল অবশ্যই বায়ার্নকে এগিয়ে রেখেছে, কিন্তু এই ব্যবধান এতটাও বড় নয় যে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়। রিয়াল মাদ্রিদের মতো দল যেকোনো সময় ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারে।
তাই বায়ার্নের জন্য এই জয় স্বস্তির হলেও, প্রকৃত পরীক্ষা এখনো সামনে। আর সেই পরীক্ষায় আবারও নয়্যারের মতো অভিজ্ঞদের দিকেই তাকিয়ে থাকবে জার্মান জায়ান্টরা।