
গত বছরের ডিসেম্বরেও নাঈম ইসলাম জাতীয় ক্রিকেট লিগে রংপুর বিভাগের হয়ে খেলছিলেন। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তিনি এখন জাতীয় দলের চার সদস্যের নির্বাচক প্যানেলের অংশ, যা তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের একটি নীরব সমাপ্তিও টেনে দিয়েছে।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক পারফরমার হিসেবে পরিচিত নাঈম এখন নতুন দায়িত্বে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব পাওয়া এই সাবেক ক্রিকেটার শুরুতেই জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হবে পারফরম্যান্স।
খেলোয়াড় থেকে নির্বাচক, নতুন অধ্যায়কে দেখছেন দায়িত্ব হিসেবে
নাঈমের ভাষায়, এই পথচলা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তিনি জানিয়েছেন, এই সুযোগ না এলে হয়তো কোচিংয়েই ঢোকার চেষ্টা করতেন, কারণ সেই প্রস্তুতিও ছিল তাঁর। তবে বোর্ডের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ আসার পর তিনি মনে করেছেন, খেলোয়াড় হিসেবে যা পুরোপুরি করতে পারেননি, নির্বাচক হিসেবে সেটি অর্জনের চেষ্টা করতে পারবেন।
এই ভাবনা থেকেই তিনি নতুন ভূমিকাকে কেবল পদ নয়, দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন। তাঁর বিশ্বাস, এখানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে দেশের ক্রিকেটে বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সুযোগ না পাওয়া ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চান
নিজের ক্যারিয়ারে পারফর্ম করেও সুযোগ না পাওয়ার অভিজ্ঞতা নাঈমের আছে। তাই নির্বাচক হিসেবে সবচেয়ে আগে যে জায়গাটায় বদল আনতে চান, তা হলো যোগাযোগের অভাব।
তিনি মনে করেন, সব ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু যারা বাদ পড়বে তাদের কারণটা জানানো উচিত। কোনো খেলোয়াড় যদি জানতে চায় কেন সে স্কোয়াডে নেই, তাহলে তাকে স্পষ্ট বলা দরকার কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে এবং কী করলে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে। নাঈমের মতে, এই স্বচ্ছ কথোপকথনই খেলোয়াড়কে অনুপ্রাণিত রাখে।
দল গঠনে অগোছালো সিদ্ধান্ত কমাতে চান
ঘরোয়া দলে নির্বাচন নিয়ে যে প্রশ্ন প্রায়ই ওঠে, সেখানেও নাঈম আরও যুক্তিনির্ভর পদ্ধতির পক্ষে। তাঁর বক্তব্য, এখন সব তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায়, কার কত রান, কত স্ট্রাইক রেট, কতদিন ধরে কেমন খেলছে সবই দেখা সম্ভব।
এই কারণে কেবল কারও ইচ্ছায় বা পরিচিতির ভিত্তিতে দলে জায়গা দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন। যদি কেউ এমন ক্রিকেটারের নাম প্রস্তাব করে, যে দীর্ঘদিন পারফর্ম করছে না, তাহলে তার পেছনে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা থাকতে হবে। ব্যাখ্যা না থাকলে তিনি তাতে সম্মত হবেন না। এখানেই তিনি আবারও জোর দিয়েছেন, পারফরম্যান্সকেই প্রথম অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ফরম্যাটভিত্তিক নির্বাচনেও আনতে চান বেশি বাস্তবতা
নাঈম আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন, সেটি হলো এক ফরম্যাটের পারফরম্যান্স ধরে অন্য ফরম্যাটে হঠাৎ সুযোগ দেওয়া। তাঁর মতে, সাদা বলের ক্রিকেটে ভালো খেললেই কাউকে সরাসরি টেস্টে তুলে দেওয়া অনেক সময় ক্রিকেটারের জন্যই কঠিন হয়ে যায়।
কারণ আন্তর্জাতিক লাল বলের ক্রিকেটের জন্য আলাদা প্রস্তুতি দরকার। প্রস্তুতির সময় কম থাকলে মানিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়। তাই তিনি এমন সিদ্ধান্ত কমাতে চান, যেগুলো দেখে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জাগে কীভাবে একজন খেলোয়াড় দলে সুযোগ পেল।
খেলোয়াড়ি জীবন নিয়ে আক্ষেপ নয়, কৃতজ্ঞতাই বেশি
দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষে নতুন ভূমিকায় এলেও নাঈম অতীত নিয়ে হতাশ নন। ২০০১ ০২ মৌসুম থেকে ২০২৬ পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনকে তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে দেখছেন।
তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, কী পাননি তা ভেবে থাকতে চান না। বরং যা পেয়েছেন, সেটি নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট। এখন সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে আরও সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য নির্বাচন প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে চান।