
আইপিএল শুরুর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আবারও স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। পিঠের চোটে আকাশদীপ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর তাঁর জায়গায় বিদর্ভের বাঁহাতি পেসার সৌরভ দুবেকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেকেআর।
যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে জানা গেছে ২৮ বছরের এই পেসার ইতিমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছে অনুশীলনও শুরু করে দিয়েছেন। ফলে নতুন মরশুমের আগে কেকেআরের পেস বিভাগে অন্তত একটি ফাঁক আপাতত পূরণ হতে চলেছে।
আকাশদীপের চোট কেকেআরকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করল
আকাশদীপ বর্তমানে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্যে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতি কেকেআরের জন্য বড় ধাক্কা, কারণ মরশুম শুরুর আগেই দলের বোলিং আক্রমণে একের পর এক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এর আগে মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় ব্লেসিং মুজারাবানিকে দলে নেয় কেকেআর। এবার আকাশদীপের বদলিও ঠিক হয়ে গেল, এবং সেই সুযোগ এসে গেল সৌরভ দুবের সামনে।
আইপিএলে অভিষেক হয়নি, তবে অভিজ্ঞতা একেবারে নেই তা নয়
সৌরভ দুবে এখনও পর্যন্ত আইপিএলে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি, তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। ২০২২ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তাঁকে ২০ লক্ষ টাকায় দলে নিয়েছিল।
এবারের নিলামে তাঁর বেস প্রাইস ছিল ৩০ লক্ষ টাকা, কিন্তু কোনও দল তাঁকে কেনেনি। শেষ পর্যন্ত চোটের কারণে তৈরি হওয়া শূন্যস্থানই তাঁর জন্য নতুন দরজা খুলে দিল।
ঘরোয়া ক্রিকেট ও এশিয়া কাপে নজর কেড়েছিলেন সৌরভ
বিদর্ভের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা সৌরভ দুবে নতুন বলে সুইং করাতে পারেন, যা তাঁকে আলাদা করে তোলে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আটটি ম্যাচে তিনি ১৬ উইকেট নিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, ২০১৯ সালে ভারতের হয়ে এমার্জিং এশিয়া কাপেও খেলেছেন তিনি। নেপালের বিরুদ্ধে নিজের প্রথম ম্যাচেই ২৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেই প্রতিযোগিতায় তিন ম্যাচে তিনি মোট ৭ উইকেট নিয়েছিলেন।
বাঁহাতি পেসারের ঘাটতিও কিছুটা মিটবে
মুস্তাফিজুর চলে যাওয়ার পর কেকেআরের দলে বাঁহাতি পেসারের অভাব তৈরি হয়েছিল। সৌরভকে নেওয়া হলে সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ হবে, যা টিম ম্যানেজমেন্টের জন্যও স্বস্তির খবর।
তবে কেকেআরের সব সমস্যা এখনও মেটেনি। হর্ষিত রানার বদলি এখনও ঠিক হয়নি, আর মাথিশা পাথিরানাকে নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তাঁর ফিটনেস পরীক্ষার পরই ঠিক হবে, তিনি আইপিএলে খেলতে পারবেন কি না। যদি পাথিরানাও বাইরে চলে যান, তাহলে কেকেআরকে আরও একবার বিকল্প খুঁজতে হবে।