
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চললেও টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের দিক থেকে প্রকাশ্যে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া আসেনি। অবশেষে সেই নীরবতা ভাঙলেন আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল। তিনি পুরো ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার কয়েক মাস পর তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ মুস্তাফিজকে ঘিরে যা হয়েছিল তা শুধু বাংলাদেশ বা ভারত নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনেও আলোড়ন তুলেছিল।
ধুমাল বললেন, পরিস্থিতি ছিল দুর্ভাগ্যজনক
এক সাক্ষাৎকারে অরুণ ধুমাল বলেন, তিনি পুরো ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলেই দেখছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব গভীরভাবে জড়িত ছিলেন না, তবে তখনকার পরিস্থিতি এমন ছিল যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে ক্রিকেটের বাইরের বাস্তবতাও প্রভাব ফেলেছিল।
তিনি এও বোঝাতে চেয়েছেন যে, সবসময় ক্রিকেট কেবল মাঠের খেলা নয়, অনেক সময় আশপাশের পরিবেশও কিছু কঠিন সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। তবে তাঁর আশা, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না।
মুস্তাফিজকে দলে নিয়েও শেষ পর্যন্ত রাখতে পারেনি কলকাতা
এবারের আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে বড় অঙ্কে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাংলাদেশি পেসারকে নিয়ে তাদের পরিকল্পনাও ছিল স্পষ্ট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন দিকে যায় যে তাকে আর রাখা সম্ভব হয়নি।
সেই সময় কলকাতার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজির নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং বোর্ডের দিক থেকেও নির্দেশনা ছিল।
বিতর্কের কেন্দ্রেই ছিলেন মুস্তাফিজ
মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে পুরো আইপিএল কাঠামো, বোর্ডের ভূমিকা এবং আঞ্চলিক সম্পর্কের প্রভাব। একজন প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল।
তাই ধুমালের মন্তব্যকে অনেকে দেরিতে এলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখবেন। কারণ এতদিন পর্যন্ত আইপিএলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন স্পষ্ট ভাষায় কেউ এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করেননি।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আশাবাদ
অরুণ ধুমালের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্ভবত এই যে, তিনি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ আইপিএলও বুঝতে পারছে, এমন সিদ্ধান্ত শুধু দল বা টুর্নামেন্ট নয়, বৃহত্তর ক্রিকেট ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলে।
মুস্তাফিজ ইস্যু এখন অতীতের ঘটনা হলেও, এর প্রতিধ্বনি এখনো রয়ে গেছে। আর সেই কারণেই আইপিএল চেয়ারম্যানের এই মন্তব্য আবারও মনে করিয়ে দিল, ক্রিকেটের বড় মঞ্চে নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব মাঠের অনেক বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে যায়।