
এফএ কাপ এখন শেষ বাঁকে। ট্রফি জিততে আর মাত্র তিনটি ম্যাচ বাকি, আর সেই পথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অর্থাৎ সেমিফাইনালের জোড়াও এখন চূড়ান্ত। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী এই টুর্নামেন্টে শেষ চারে উঠে আসা চার দলকে নিয়ে তৈরি হয়েছে দারুণ দুই লড়াই।
সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটি খেলবে সাউদাম্পটনের বিপক্ষে, আর অন্য ম্যাচে চেলসির প্রতিপক্ষ লিডস ইউনাইটেড। দুই সেমিফাইনালই অনুষ্ঠিত হবে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে, আগামী ২৫ ও ২৬ এপ্রিল।
ম্যানসিটির সামনে সাউদাম্পটন, কিন্তু প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই
সাউদাম্পটন শেষ চারে উঠে এসেছে বড় চমক দেখিয়ে। তারা আর্সেনালকে ২ ১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। এই জয় শুধু ফলের দিক থেকে নয়, আত্মবিশ্বাসের দিক থেকেও দলটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়ে ৪ ০ গোলে লিভারপুলকে উড়িয়ে দিয়েছে। পেপ গার্দিওলার দল এখন টানা চতুর্থ মৌসুমে ফাইনালে ওঠার খুব কাছে। ফলে এই লড়াইয়ে সিটি এগিয়ে থাকলেও সাউদাম্পটনের সাম্প্রতিক চমক তাদের বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ হিসেবেই তুলে ধরছে।
চেলসি ও লিডসের লড়াইয়ে থাকছে পুরোনো ইতিহাসের আবহ
অন্য সেমিফাইনালেও উত্তেজনার কমতি নেই। চেলসি কোয়ার্টার ফাইনালে পোর্ত ভেলকে ৭ ০ গোলে বিধ্বস্ত করে শেষ চার নিশ্চিত করেছে। আক্রমণভাগের ধার এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ, দুই দিকেই তারা ছিল অনেক এগিয়ে।
লিডস ইউনাইটেডের পথটা ছিল অনেক বেশি নাটকীয়। ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে ৪ ২ ব্যবধানে জিতে তারা সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। দীর্ঘ ৩৯ বছর পর এই পর্যায়ে ওঠায় ক্লাবটির জন্য এটি বিশেষ অর্জন।
পুরোনো ফাইনালের স্মৃতি ফিরছে নতুন করে
চেলসি আর লিডসের এই মুখোমুখি লড়াইয়ে ইতিহাসও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১৯৭০ সালের এফএ কাপ ফাইনালে এই দুই দলই মুখোমুখি হয়েছিল। সে সময় রিপ্লে ম্যাচ জিতে চেলসি শিরোপা ঘরে তুলেছিল।
তাই এবারকার সেমিফাইনাল শুধু বর্তমান ফর্মের হিসাবেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অতীতেরও এক বিখ্যাত অধ্যায়।
শিরোপার স্বপ্ন এখন আরও স্পষ্ট
ম্যানচেস্টার সিটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এফএ কাপে ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়েছে, আর এবারও তারা ফাইনালের খুব কাছে। অন্যদিকে সাউদাম্পটন ১৯৭৬ সালের পর আবারও এই ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।
চেলসি নিজেদের শক্তিশালী পারফরম্যান্সে এগোচ্ছে, আর লিডস দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে পেয়েছে বড় মঞ্চে ফেরার সুযোগ। সব মিলিয়ে দুই সেমিফাইনালেই রয়েছে আলাদা গল্প, আলাদা চাপ এবং শিরোপার প্রবল ক্ষুধা।
ওয়েম্বলিতে এখন অপেক্ষা শুধু এই দেখার, কারা পৌঁছায় শেষ লড়াইয়ে।