ইতালিকে থামিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কেটে নিল বসনিয়া

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এমন এক জয় তুলে নিল, যা তাদের ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইউরোপিয়ান প্লে অফের ফাইনালে তারা ইতালিকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে, আর সেই সঙ্গে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আবারও বড় মঞ্চের বাইরে ঠেলে দিয়েছে।

নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচ ১ ১ সমতায় থাকায় লড়াই গড়ায় পেনাল্টি শ্যুটআউটে। সেখানে বসনিয়া ছিল অনেক বেশি ঠান্ডা মাথার, অনেক বেশি নিখুঁত। শেষ পর্যন্ত ৪ ১ ব্যবধানে জিতে তারা উল্লাসে ফেটে পড়ে।

শুরুর ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফেরে বসনিয়া

ম্যাচের শুরুটা বসনিয়ার পক্ষে ছিল না। ১৫ মিনিটেই মইসে কিনের গোলে এগিয়ে যায় ইতালি। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, অভিজ্ঞ দল হিসেবে আজ্জুরিরা হয়তো চাপ সামলে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

কিন্তু বসনিয়া পিছিয়ে পড়েও ভেঙে পড়েনি। তারা বলের দখল ধরে রাখে, আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে এবং ধীরে ধীরে ইতালির রক্ষণকে চাপে ফেলে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের মোড় আরও ঘুরে যায়, যখন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর ইতালিকে দীর্ঘ সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়।

একজন বেশি নিয়ে বসনিয়া বাড়ায় চাপ

সংখ্যাগত সুবিধা পাওয়ার পর বসনিয়া আর পিছু হটেনি। তারা ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ গড়ে ইতালির গোলমুখে শট নিতে থাকে। দোন্নারুম্মা একের পর এক সেভ করে ইতালিকে ম্যাচে রাখার চেষ্টা করেন, কিন্তু চাপ কমেনি।

অবশেষে ৭৯তম মিনিটে সেই পরিশ্রমের ফল পায় স্বাগতিকরা। হারিস তাবাকোভিচ গোল করে স্কোর সমতায় ফেরান। তখন থেকেই ম্যাচের গতি এবং মানসিক নিয়ন্ত্রণ দুইই বসনিয়ার দিকে বেশি ঝুঁকে যায়।

পেনাল্টিতে ভেঙে পড়ে ইতালি

অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। সেখানেই ইতালি পুরোপুরি ছন্দ হারায়। প্রথম শটেই তারা ব্যর্থ হয়, পরে আরেকটি প্রচেষ্টাও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

অন্যদিকে বসনিয়া একের পর এক শট জালে জড়ায়। শেষ পর্যন্ত এস্মির বায়ারাকতারেভিচের সফল স্পট কিকের পরই নিশ্চিত হয়ে যায় ইতালির আরেকটি বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ এবং বসনিয়ার প্রত্যাবর্তন।

ইতালির জন্য আরেকটি দুঃস্বপ্ন

এই হারের অর্থ ইতালির জন্য খুবই কঠিন। তারা টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হলো। ২০১৮, ২০২২ এর পর এবারও বিশ্বমঞ্চে উঠতে পারল না আজ্জুরিরা।

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এত বড় ঐতিহ্য থাকা একটি দলের জন্য এটি নিঃসন্দেহে গভীর হতাশার। ২০০৬ সালে শেষবার শিরোপা জেতা দেশটি এখন এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে, যেখানে বিশ্বকাপে না থাকা যেন ধীরে ধীরে অস্বাভাবিক কিছু আর থাকছে না।

বসনিয়ার জন্য নতুন অধ্যায়

অন্যদিকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জন্য এটি শুধু একটি জয় নয়, বরং এক নতুন দরজা খোলা। ২০১৪ সালের পর তারা আবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরছে। সব মিলিয়ে এটি তাদের দ্বিতীয়বারের মতো মঞ্চে ওঠা।

এবার তারা গ্রুপ বি তে খেলবে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে কানাডা, কাতার এবং সুইজারল্যান্ড। ইতালিকে হারিয়ে আসা এই দলটিকে এখন আর কেউ হালকাভাবে দেখবে না।

লেখক সম্পর্কে

১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন রাজেশ কুমার, সাধারণ খেলার ক্ষেত্রে দশকেরও বেশি বিশেষজ্ঞতা সম্পন্ন অভিজ্ঞতা সহ এক পুরস্কৃত প্রাধিকর্তা। ২০০৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খেলার বিজ্ঞানে স্নাতক সমাপ্ত করার পর, কুমার ভারতবর্ষের বিভিন্ন খেলার একাডেমির সাথে সম্পর্কিত হয়েছেন, প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াগুলির মাধ্যমে করে, তিনি তার অভ্যাসে বৈশ্বিক পদ্ধতিগুলি অবলম্ব করেছেন। রাজেশ বর্তমানে সাংবাদিকতায় নিযুক্ত, দৈনন্দিন খেলাধুলা নিয়ে নিবন্ধ লেখেন এবং Betting.BC.Game-এর প্রধান সম্পাদক।

আপনার মন্তব্য ছেড়ে দিন
সবাই আপনার মন্তব্য দেখতে পাবেন