সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয়ে বাছাইপর্ব শেষ করতে চায় বাংলাদেশ

এক বছর আগে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের নতুন পথচলা শুরু হয়েছিল। আজ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সেই পর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে নামছে দল, আর লক্ষ্য একটাই, জয় দিয়ে এই যাত্রার ইতি টানা।

সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হবে ম্যাচটি। টুর্নামেন্টের হিসেবে এটি হয়তো আর ভাগ্য বদলের লড়াই নয়, কিন্তু দলটির জন্য গুরুত্ব এখনো কমেনি।

স্বপ্ন শেষ হলেও ম্যাচটির গুরুত্ব কমেনি

প্রবাসী ফুটবলারদের যোগ হওয়ায় এবারের বাছাইয়ে বাংলাদেশকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেড়েছিল। হামজা চৌধুরী, শমিত সোমদের উপস্থিতিতে দল নিয়ে নতুন স্বপ্নও তৈরি হয়েছিল। তবে সেই স্বপ্ন এখন আর টিকে নেই, কারণ পাঁচ ম্যাচে মাত্র এক জয়, দুই হার আর দুই ড্রয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ হয়েছে ৫ পয়েন্ট।

তাই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি এখন মূলত ভালোভাবে পর্ব শেষ করার সুযোগ। কোচ হাভিয়ের কাবরেরার দৃষ্টিতে এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়। তাঁর বিশ্বাস, দল অনেক সময় ভালো খেলেও প্রত্যাশিত পয়েন্ট তুলতে পারেনি, তাই শেষ ম্যাচে অন্তত তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারলে সেটি ইতিবাচক সমাপ্তি হবে।

প্রথম লেগের আক্ষেপ এখনো আছে

ঢাকায় প্রথম লেগে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশ খারাপ খেলেনি। বরং লড়াইটা ছিল জমজমাট। কিন্তু কিছু ভুলের সুযোগ নিয়ে সিঙ্গাপুর ২ ১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয়।

সেই ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে কাবরেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ অন্তত একটি পয়েন্ট পেতেই পারত। এবার তিনি চান না একই ধরনের ভুল আবারও দলকে ভুগাক। অর্থাৎ শুধু ভালো খেলাই নয়, ফলও নিয়ে ফিরতে চায় বাংলাদেশ।

জিতলে মিলতে পারে একাধিক নতুন অর্জন

এই ম্যাচে জয় এলে শুধু তিন পয়েন্টই যোগ হবে না, সঙ্গে থাকবে আরও কিছু তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন। এর একটি হবে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে প্রথমবারের মতো দুই জয়ের স্বাদ পাওয়া। বাংলাদেশ আগে বহুবার এই প্রতিযোগিতার বাছাই খেললেও এক আসরে একাধিক জয়ের ইতিহাস নেই।

আরেকটি বড় দিক হলো, হামজা চৌধুরী দলে যোগ দেওয়ার পর এখনো প্রতিপক্ষের মাঠে জয় পায়নি বাংলাদেশ। শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে হামজার অভিষেকের পর থেকে আটটি ম্যাচ খেলেও দেশের বাইরে জয়ের দেখা মেলেনি। সিঙ্গাপুরকে হারাতে পারলে সেই অপেক্ষাও শেষ হবে।

র‌্যাঙ্কিং ও ইতিহাস, দুই দিকেই সুযোগ

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত পরিসংখ্যানও খুব স্বস্তির নয়। চার দেখায় দুই হার আর দুই ড্র, কোনো জয় নেই। তাই এই ম্যাচে সাফল্য এলে সেটি হবে নতুন আরেকটি অধ্যায়।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। ভিয়েতনামের বিপক্ষে সাম্প্রতিক হার বাংলাদেশের কিছু পয়েন্ট কেটে নিয়েছে। এখন র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৮১ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের সামনে ১৪৮ নম্বরে থাকা সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে।

জামালের চোখে এই জয় হতে পারে বিশেষ কিছু

অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার মতে, এই ম্যাচে তিন পয়েন্ট পেলে সেটি শুধু আরেকটি জয় হবে না, বরং দলের জন্য একটি বিশেষ অর্জন হয়ে থাকবে। তাঁর বিশ্বাস, বাছাইপর্বে বাংলাদেশ পুরোপুরি খারাপ খেলেনি, তাই শেষ কাজটি ভালোভাবে শেষ করতে পারলে তা দলকে ইতিবাচক বার্তা দেবে।

সব মিলিয়ে সিঙ্গাপুরের মাঠে আজকের ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি একসঙ্গে আক্ষেপ ঘোচানোর, নতুন কিছু গড়ে তোলার এবং এক বছরের যাত্রাকে স্মরণীয়ভাবে শেষ করার সুযোগ।

লেখক সম্পর্কে

১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন রাজেশ কুমার, সাধারণ খেলার ক্ষেত্রে দশকেরও বেশি বিশেষজ্ঞতা সম্পন্ন অভিজ্ঞতা সহ এক পুরস্কৃত প্রাধিকর্তা। ২০০৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খেলার বিজ্ঞানে স্নাতক সমাপ্ত করার পর, কুমার ভারতবর্ষের বিভিন্ন খেলার একাডেমির সাথে সম্পর্কিত হয়েছেন, প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াগুলির মাধ্যমে করে, তিনি তার অভ্যাসে বৈশ্বিক পদ্ধতিগুলি অবলম্ব করেছেন। রাজেশ বর্তমানে সাংবাদিকতায় নিযুক্ত, দৈনন্দিন খেলাধুলা নিয়ে নিবন্ধ লেখেন এবং Betting.BC.Game-এর প্রধান সম্পাদক।

আপনার মন্তব্য ছেড়ে দিন
সবাই আপনার মন্তব্য দেখতে পাবেন