
বাড়ির কাছেই মাঠ, ফিটনেস রাখার চেষ্টা
বিশ্বকাপে না খেলার ধাক্কা পুরো দেশের ক্রিকেটে লেগেছে। যেখানে ক্রিকেটারদের থাকার কথা ছিল ভারতের বেঙ্গালুরুতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে সেখানে অনেকেই এখন গ্রামের বাড়িতে বা ঢাকায় অবসর কাটাচ্ছেন।
একজন ক্রিকেটার নাম প্রকাশ না করে বলেন: ‘বাড়ির কাছেই মাঠ আছে। সেখানে গিয়ে ফিটনেসটা ঠিক রাখার চেষ্টা করছি। খেলার তো কোনো খবর নেই!’
বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দলে থাকা এই ক্রিকেটারের কথায় হতাশা স্পষ্ট।
মিরপুরে স্থবিরতা
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা গেছে একাডেমি মাঠে কোনো ব্যস্ততা নেই। ফিটনেস ট্রেনিং করতে দেখা যায়নি কাউকে। মাঠকর্মীরা ঘাস কাটছিলেন শুধু।
মিরপুরে কোথাও ক্রিকেটারদের আনাগোনা ছিল না। যাদের রোজকার কাজে বিসিবি ভবনে আসতে হয় তাদেরও তাড়াহুড়া নেই।
এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করে বলেন: ‘সবাই জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। একেকজনের একেক রকম স্বার্থ। পুরো বিষয়টা নির্বাচনের পরই পরিষ্কার হবে। এখন তাই সবাই একটু চুপচাপ থাকতে চাইছে।’
ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিশ্চয়তা
ঘরোয়া ক্রিকেটও অনিশ্চয়তায়। প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে ৮টি ক্লাব বয়কট করেছে। ক্রিকেটারদের দাবির মুখে সেই দলগুলোর খেলোয়াড়দের নিয়ে চলছে সিসিডিএম চ্যালেঞ্জ কাপ টি-টোয়েন্টি।
ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে বর্তমান বোর্ডের নির্বাচনের পর থেকে। ৪৮টি ক্লাব বোর্ডকে ‘অবৈধ’ বলে কোনো ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছে না। প্রথম বিভাগ দ্বিতীয় বিভাগ প্রায় অর্ধেক ক্লাব ছাড়াই চলছে।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগও অনিশ্চয়তায়। ১২ ক্লাবের ৯টি বয়কটের পক্ষে।
বিসিবির পরিকল্পনা
বিপিএলের সময় টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন বলেছিলেন ক্রিকেটের অনিশ্চয়তায় ‘চিন্তা হচ্ছে’ এবং পরের খেলা কবে তাও মনে করতে পারেননি।
বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির ম্যানেজার আবু ইনাম মোহাম্মদ কায়সার বলেন: ‘বিসিএলটা আমাদের একটু ভিন্নভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন যেহেতু জাতীয় দল বিশ্বকাপে যাচ্ছে না তাই পরিকল্পনা বদলাতে হবে।’
ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপের সময় বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণের ম্যাচ হবে। এপ্রিলে চার দিনের ম্যাচ হবে।
বিশ্বকাপ না খেলায় ক্রিকেটের সবকিছু স্থবির। ক্রিকেটাররা এখন অপেক্ষায় কখন আবার খেলার মাঠে ফিরবেন।