মেসির শুরু থেকেই উপস্থিতিতে আর্জেন্টিনার জ্বলে ওঠা, জাম্বিয়ার জালে পাঁচ গোল

লিওনেল মেসি যখন শুরু থেকেই মাঠে থাকেন, আর্জেন্টিনার খেলায় যে অন্যরকম প্রাণ ফিরে আসে, জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি আবারও সেটাই প্রমাণ করল। বুয়েনস এইরেসে প্রীতি ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আফ্রিকান প্রতিপক্ষকে ৫ ০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতিতে বড়সড় ইতিবাচক বার্তা দিল।

মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচে মেসি শুরুর একাদশে ছিলেন না, ফলে আর্জেন্টিনার খেলায় ধারও খুব একটা দেখা যায়নি। কিন্তু এবার শুরু থেকেই অধিনায়কের উপস্থিতি পুরো দলের ছন্দ পাল্টে দেয়।

প্রথমার্ধেই ম্যাচের দখল নিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল স্কালোনির দল। ম্যাচের মাত্র ৪ মিনিটে প্রথম গোল আসে, আর সেই আক্রমণের শুরুতেও ছিলেন মেসি। দূরপাল্লার পাস ধরে তিনি বল নামিয়ে আক্রমণের পথ খুলে দেন, সেখান থেকে জুলিয়ান আলভারেজ জোরালো শটে দলকে এগিয়ে দেন।

প্রথম গোলের পরও চাপ কমায়নি আর্জেন্টিনা। বিরতির ঠিক আগে মেসি নিজেও নাম লেখান স্কোরশিটে। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সঙ্গে দ্রুত পাস আদানপ্রদানের পর নিচু শটে গোল করে ব্যবধান ২ ০ করেন তিনি। এই গোলটি বিশেষ তাৎপর্যও বহন করে, কারণ জাতীয় দলের হয়ে এটি হয়তো দেশের মাটিতে মেসির শেষ গোল হতে পারে।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও নির্দয় হয়ে ওঠে স্কালোনির দল

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা আরও দৃঢ়ভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ৫০ মিনিটে থিয়াগো আলমাদাকে বক্সে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। স্পটকিকটি নিজে না নিয়ে মেসি সেটি নিকোলাস ওতামেন্দিকে ছেড়ে দেন, আর অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সুযোগটা কাজে লাগিয়ে তৃতীয় গোলটি করেন।

এরপর ম্যাচের ৬৮ মিনিটে অবিরাম চাপের মুখে জাম্বিয়ার রক্ষণ আবারও ভেঙে পড়ে। একটি শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে ডিফেন্ডার ডমিনিক চান্দারের গায়ে লেগে বল জালে ঢুকে গেলে আর্জেন্টিনা পেয়ে যায় চতুর্থ গোল। আর যোগ করা সময়ে ভ্যালেন্টিন বারকো শেষ আঘাত হেনে স্কোরলাইন দাঁড় করান ৫ ০।

মেসি শুধু গোলই করেননি, পুরো আক্রমণের ছন্দও ঠিক করেছেন

এই ম্যাচে মেসির প্রভাব শুধু গোলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আক্রমণ গড়া, গতি বাড়ানো, সঠিক জায়গায় বল পৌঁছে দেওয়া, সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্র। তাঁর উপস্থিতি আর্জেন্টিনার আক্রমণকে অনেক বেশি স্বাভাবিক ও ধারালো করে তোলে।

এই গোলের মাধ্যমে মেসি এখন ৪০টি আলাদা জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল করার রেকর্ডও গড়েছেন, যা আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে অনন্য।

বিশ্বকাপের আগে স্কালোনি দল ঘুরিয়েও দেখলেন

ম্যাচটি ছিল প্রস্তুতির অংশ, তাই স্কালোনি ফলের পাশাপাশি স্কোয়াডের গভীরতাও যাচাই করেছেন। পুরো ম্যাচে তিনি একাধিক পরিবর্তন করেন এবং ৭৪ মিনিটে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে তুলে হুয়ান মুসোকে নামিয়ে গোলপোস্টেও রদবদল আনেন।

এতে বোঝা যায়, কোচ শুধু জয় চাননি, বরং বিশ্বকাপের আগে যত বেশি সম্ভব খেলোয়াড়কে ছন্দে আনাই তাঁর পরিকল্পনার অংশ।

ঘরের মাঠে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে দারুণ বিদায়

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে এটাই ছিল আর্জেন্টিনার শেষ দুটি প্রীতি ম্যাচের একটি অধ্যায়। তাই ম্যাচ শেষে দর্শকদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের আবেগঘন যোগাযোগও আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

এরপর আরও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে আর্জেন্টিনার। একটি ম্যাচে সার্বিয়া প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রায় নিশ্চিত, আর সেটি হবে যুক্তরাষ্ট্রে। সব মিলিয়ে জাম্বিয়ার বিপক্ষে এই বড় জয় বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।

লেখক সম্পর্কে

১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন রাজেশ কুমার, সাধারণ খেলার ক্ষেত্রে দশকেরও বেশি বিশেষজ্ঞতা সম্পন্ন অভিজ্ঞতা সহ এক পুরস্কৃত প্রাধিকর্তা। ২০০৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খেলার বিজ্ঞানে স্নাতক সমাপ্ত করার পর, কুমার ভারতবর্ষের বিভিন্ন খেলার একাডেমির সাথে সম্পর্কিত হয়েছেন, প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াগুলির মাধ্যমে করে, তিনি তার অভ্যাসে বৈশ্বিক পদ্ধতিগুলি অবলম্ব করেছেন। রাজেশ বর্তমানে সাংবাদিকতায় নিযুক্ত, দৈনন্দিন খেলাধুলা নিয়ে নিবন্ধ লেখেন এবং Betting.BC.Game-এর প্রধান সম্পাদক।

আপনার মন্তব্য ছেড়ে দিন
সবাই আপনার মন্তব্য দেখতে পাবেন