
সঞ্জুর আত্মবিশ্বাস ফেরানো এবং দলের চাহিদাকে বড় করে দেখা
টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব জানালেন, কীভাবে সঞ্জু স্যামসনকে কঠিন সময় থেকে তুলে আনা হয়েছিল। নিউ জিল্যান্ড সিরিজে প্রত্যাশামতো খেলতে না পারায় সঞ্জু ছন্দের বাইরে ছিলেন। এমনকি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও তিনি জায়গা পাননি। কিন্তু পরে তিনিই হয়ে ওঠেন টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার।
সূর্যকুমার জানান, একদিন সঞ্জু নিজে এসে জানতে চেয়েছিলেন দল তার কাছ থেকে কী চায়। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, এমন সঞ্জুকে দেখতে চান যে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ ভেঙে দিতে পারে। এরপর সঞ্জু পুরো দলকে বোঝান, নিজেদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার চেয়ে দলের প্রয়োজন অনেক বড়, এবং সেই ভাবনা নিয়েই খেলতে হবে।
অধিনায়ক আরও বলেন, যখন সঞ্জু খেলছিলেন না, তখন তাকেও তিনি ধৈর্য ধরতে বলেছিলেন। সূর্যের মতে, কঠিন সময় পার করা ছাড়া উপায় ছিল না, কিন্তু সুযোগ এলে সেটি কাজে লাগানোর জন্য সঞ্জু নিজেকে প্রস্তুত রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে।
শতরানের পেছনে না ছোটা সঞ্জু দলের উপকার করেছে
সূর্যকুমার মনে করেন, শেষ তিন ম্যাচে সঞ্জুর তিনটি ইনিংসই ভারতের ভাগ্য ঘুরিয়ে দিয়েছে। তিনি বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়েছেন এই কারণে যে সঞ্জু শতরানের জন্য নিজের খেলা আটকে রাখেননি। বরং দ্রুত রান তুলে দলের স্কোর যতটা সম্ভব বড় করার পথ তৈরি করেছেন।
তার মতে, চাইলে সঞ্জু তিনটি ম্যাচেই শতরান করতে পারতেন, কিন্তু সে পথে না গিয়ে দ্রুত রান তোলায় দলের অন্য ব্যাটারদেরও বাড়তি বল খেলার সুযোগ মিলেছে। সূর্য উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কেউ ৮৯ থেকে ১০০ রানে যেতে ১০ বল খরচ করে, তাহলে পরের ব্যাটারের কাছ থেকে সেই বলগুলো কেটে নেয়। আর সেখানেই শিভম দুবের মতো ব্যাটাররা ৬ বলে ২৮ বা ৮ বলে ২৬ রান করার সুযোগ পেয়েছে।
সূর্যের বিশ্বাস, সঞ্জু যদি ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিকে তাকাতেন, তাহলে ভারতের স্কোর ২৫০ পেরোত না। তাই দলের স্বার্থে তার সেই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অভিষেকের উপর অটুট আস্থা এবং অক্ষরের অভিমান
অভিষেক শর্মার প্রসঙ্গেও সূর্যকুমার গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। বিশ্বকাপের শুরুতে অভিষেকের ব্যর্থতা থাকলেও অধিনায়ক তার উপর আস্থা হারাননি। তিনি নাকি অভিষেককে আগেই বলে দিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে সে আট ম্যাচেও ব্যর্থ হলেও ফাইনালে প্রথম বল খেলবে সে-ই। সূর্যের যুক্তি ছিল, এই ধরনের ক্রিকেটাররাই ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে।
ফাইনালে সেই বিশ্বাসই সত্যি হয়। অভিষেক মাত্র ১৮ বলে ৫০ করে ভারতের ইনিংসের গতি বদলে দেন। পাওয়ারপ্লেতেই দল ৯০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, আর সেখান থেকেই ম্যাচ ভারতীয়দের দিকে হেলে পড়ে। সূর্য বলেন, খেলোয়াড়দের উপর বিশ্বাস রাখা খুব জরুরি, কারণ বড় দিনে তারাই পার্থক্য গড়ে দেয়।
অক্ষর পটেলকে এক ম্যাচে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও সূর্য কথা বলেছেন। তিনি স্বীকার করেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে অক্ষরকে বসিয়ে দেওয়ার পর তিনি রেগে গিয়েছিলেন, এবং সেটাই স্বাভাবিক। কারণ এত অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটার, যে আইপিএলে দলও নেতৃত্ব দেয়, তাকে বাইরে রাখা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। সূর্য জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অক্ষরের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং ব্যাখ্যা করেছিলেন যে সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি দলের স্বার্থে নেওয়া হয়েছিল। পরে অক্ষর বিষয়টি বুঝে নিয়ে সামনে এগিয়ে যান।